:

সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে---- অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু

top-news

সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এসব প্রকল্পে দুর্নীতির স্থান নেই। অবৈধভাবে দখলকারীদের সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন খাল দখলকারী যত শক্তিশালী হোক, তাদের ছাড় দেয়া হবে না।

দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বামনসুন্দর এলাকায় খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল জলাধরা খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের উদ্যোগে মিরসরাইয়ের বামনসুন্দর এলাকার আলিরপোল এলাকা থেকে বানাতলী পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হবে।

এতে করে সরাসরি উপকারভোগী হবেন সাধারণ কৃষক। কৃষিতে সেচ নিশ্চিত করা যাবে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। 

খাল খনন কর্মসুচিতে যোগ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলছে। পাশাপাশি এনার্জি ক্রাইসিসের মধ্যেও সরকার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। 

দেশের প্রান্তিক মানুষকে সুফল দিতে খাল খনন কর্মসূচি কৃষি ও মৎসসহ নানাক্ষেত্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিরবর্তনে প্রভাব মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

খাল খননের জন্য বড় ধরনের বাজেট বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,  অর্থের বিষয়টি অবশ্যই বড়। তবে সব হিসাব-নিকাশ করেই আমরা এই প্রকল্পে হাত দিয়েছি। প্রতিটি প্রকল্পই কস্টেড অ্যান্ড বাজেটেড। অর্থাৎ খরচ নির্ধারণ ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে পরিকল্পনা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মসূচি একদিনে শেষ করা সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। যদি আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের চিত্রই বদলে যাবে।

খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, পরিবেশ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, একটি খালের কাজ সম্পন্ন হলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং এতে প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের লক্ষ্য, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা এবং দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে আনা। কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো খাল খনন প্রকল্পও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এসময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *